নতুন ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম ২০২৬ শুরু হয়েছে! ক্রিটিক্যাল সোশ্যাল থট অ্যান্ড ইসলামিক ট্র্যাডিশন ডিপ্লোমা সম্পর্কে জানুন → নতুন ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম ২০২৬ — ডিপ্লোমা সম্পর্কে জানুন →

রাজনৈতিক দর্শন

ওয়েস্টফ্যালিয়া: এক ‘সেকুলার’ বিশ্বব্যবস্থার ধর্মতাত্ত্বিক জন্ম

Share
Share

ওয়েস্টফ্যালিয়া: এক ‘সেকুলার’ বিশ্বব্যবস্থার ধর্মতাত্ত্বিক জন্ম

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শাস্ত্রপাঠে একটি বিবরণ প্রায়ই ঘুরেফিরে আসে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাঠ্যসূচিতেও এটি প্রায় স্বতঃসিদ্ধ সত্য হিসেবে পড়ানো হয়। বলা হয়, সপ্তদশ শতকের ইউরোপে ধর্মের নামে সংঘটিত ৩০ বছরের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আধুনিক আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্ম হয়েছিল।

ইউরোপের ইতিহাসের এই রক্তাক্ত অধ্যায়টি ভৌগোলিকভাবে আমাদের থেকে অনেক দূরের মনে হতে পারে; কিন্তু আজ আমরা মানচিত্র, সীমান্ত, পাসপোর্ট ও রাষ্ট্র বলতে যে কাঠামোটিকে বুঝি, তার উৎপত্তি হয়েছিল অনেকটা এখান থেকেই।

১৬১৮ থেকে ১৬৪৮ সাল পর্যন্ত ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে চলা এই সংঘাত নিছক কোনো যুদ্ধ ছিল না। এটি ছিল ধর্ম, রাজনৈতিক আধিপত্য ও রাজবংশীয় ক্ষমতার এমন এক সর্বগ্রাসী লড়াই, যেখানে মহামারি ও দুর্ভিক্ষের মিলিত আঘাতে জার্মান ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।[1] তিন দশক ধরে চলা এই ধ্বংসযজ্ঞের পর, ১৬৪৮ সালে ওয়েস্টফ্যালিয়ার ওসনাব্রুক ও মুনস্টার শহরে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

পশ্চিমা পাঠ্যপুস্তকীয় বয়ানে আমরা পাই, লাশের সেই পাহাড় ও ধ্বংসস্তূপ থেকেই আধুনিক রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল। গড়ে উঠেছিল এমন এক নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা, যা পরবর্তীতে উপনিবেশের জাহাজে চড়ে আমাদের এই বঙ্গীয় ভূখণ্ডসহ গোটা বিশ্বেই তার স্থায়ী আধিপত্য বিস্তার করে।

এই নতুন বন্দোবস্তের মূলভিত্তি ছিল দুটি। প্রথমত, যে ভূখণ্ডের শাসক, ধর্ম নির্ধারণের অধিকারও কেবল তাঁরই। দ্বিতীয়ত, সার্বভৌম সমতার নীতি; অর্থাৎ নিজ সীমানার ভেতর প্রতিটি রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী এবং পোপ বা সম্রাটের মতো বাইরের কোনো শক্তির সেখানে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

পাঠ্যপুস্তকীয় এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওয়েস্টফ্যালিয়ার মাধ্যমেই ইউরোপ তার রাজনৈতিক পরিপক্বতা লাভ করেছিল। ধর্মের রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে সরিয়ে রেখে সেকুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকেই মানুষের রাজনৈতিক জীবনের চূড়ান্ত কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু যে বয়ানটি আমাদের শেখানো হয়, সেটি সম্ভবত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মিথগুলোর একটি।

বর্তমান ইতিহাসবিদরা, বিশেষ করে আন্দ্রেয়াস ওসিয়ান্ডার অত্যন্ত নিবিড়ভাবে দেখিয়েছেন যে, ১৬৪৮ সালের এই ‘ওয়েস্টফ্যালিয়ান মিথ’ মূলত উনিশ ও বিশ শতকের তাত্ত্বিকদের একটি সুকৌশলী নির্মাণ।[2] তাঁরা নিজেদের সময়কার রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য অতীতের একটি ঐতিহাসিক উৎসবিন্দুর সন্ধান করছিলেন।

মনে রাখা দরকার, উনিশ শতক ছিল ইউরোপীয় উপনিবেশ ও জাতীয়তাবাদের চরম উৎকর্ষের সময়। এশিয়া ও আফ্রিকাকে শাসন করার জন্য তাদের একটি যৌক্তিক ভিত্তির প্রয়োজন ছিল। তারা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিল যে, ওয়েস্টফ্যালিয়ার মাধ্যমে ইউরোপ রাজনৈতিক সভ্যতার এমন এক স্তরে পৌঁছেছে, যা বাকি বিশ্ব এখনো পারেনি। অর্থাৎ, এই মিথ কেবল ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্রব্যবস্থার বৈধতার জন্যই তৈরি হয়নি; বরং ঔপনিবেশিক ‘সিভিলাইজিং মিশন’ অর্থাৎ তথাকথিত সভ্য করার প্রকল্পকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্যও এটি ছিল অত্যন্ত জরুরি।

অথচ ১৬৪৮ সালের চুক্তিগুলো মূলত পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক বন্দোবস্ত, নির্দিষ্ট রাজন্যবর্গের অধিকার এবং ক্যাথলিক, লুথারান ও ক্যালভিনিস্টদের মধ্যকার ধর্মীয় ভারসাম্য রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আধুনিক অর্থবহ কোনো ভূখণ্ডভিত্তিক সার্বভৌম রাষ্ট্রের যুগান্তকারী ঘোষণা সেখানে আদৌ ছিল না।

অতিরঞ্জনগুলো বাদ দিলে এ কথা ঠিক যে, সপ্তদশ শতকে ধর্ম, ভূখণ্ড ও কর্তৃত্বের মধ্যে নতুন এক সমীকরণ তৈরি হচ্ছিল এবং ওয়েস্টফ্যালিয়া তার একটি ঐতিহাসিক নির্দেশক মাত্র। কিন্তু আমরা যে সত্যটি ধরে নিয়েছি, সেটি কি সত্যিই সত্য?

ওয়েস্টফ্যালিয়াকে যদি ধর্ম ও রাজনীতির বিচ্ছেদের মুহূর্ত হিসেবে পড়ি, তাহলে পরিবর্তনের প্রকৃত চরিত্রটি আড়ালেই থেকে যায়। ধর্ম জনজীবন থেকে নির্বাসিত হয়নি; বদলেছে তার রাজনৈতিক অবস্থান। মধ্যযুগীয় ইউরোপে গির্জা ও রাজমুকুটের মধ্যে চূড়ান্ত কর্তৃত্বের প্রশ্নে দীর্ঘদিনের এক দ্বৈততা ছিল। ওয়েস্টফ্যালিয়ার পর সেই দ্বৈততা ভেঙে পড়ে। গির্জার ধর্মীয় কর্তৃত্ব ধীরে ধীরে সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধীনে সমাহিত হয়। ফলে ধর্মের অবসান ঘটেনি; বরং তার নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র স্থানান্তরিত হয়েছে।

বিশ শতকের শুরুতে জার্মান আইনতাত্ত্বিক কার্ল শ্মিট এই রূপান্তরকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন। শ্মিটের যুক্তি ছিল, আধুনিক রাষ্ট্র ধর্মতত্ত্বকে বিলোপ করেনি; বরং তার রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটিয়েছে। একসময় ঈশ্বরের প্রতি যে সর্বশক্তিমত্তা আরোপ করা হতো, তা-ই নতুন রূপে আবির্ভূত হলো সার্বভৌম আইনপ্রণেতার সর্বশক্তিমত্তা হিসেবে। ঈশ্বর যেমন প্রকৃতির সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে অলৌকিক ঘটনা ঘটান, আধুনিক রাষ্ট্রও তেমনি জরুরি অবস্থা জারি করে সাধারণ আইন স্থগিত করার ক্ষমতা রাখে।[3]

এই রাজনৈতিক রূপান্তরের অত্যন্ত দৃশ্যমান একটি প্রমাণ হলো রাষ্ট্রের জন্য ‘সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ’ দাবি করার ক্ষমতা। ইতিহাসে আমরা দেখি, মানুষ একসময় কেবল ধর্ম বা ঈশ্বরের জন্যই জীবন দিত, যাকে বলা হতো শাহাদাত। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র সুকৌশলে সেই ধারণাকে নিজের করে নিয়েছে। এখন রাষ্ট্র তার সীমানা বা পতাকার জন্য নাগরিকের কাছে নিঃশর্ত প্রাণদান দাবি করে এবং বিনিময়ে তাকে ‘শহিদ’ মর্যাদা দেয়। মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া বা ক্ষমা করার এই যে একচ্ছত্র অধিকার, এটিই মূলত স্রষ্টার ক্ষমতার রাজনৈতিক রূপান্তর।

ওয়েস্টফ্যালিয়ান মীমাংসা কোনো সর্বজনীন আদর্শ ছিল না। এটি ছিল একান্তই ইউরোপীয় একটি সংকটের নিখাদ খ্রিষ্টীয় সমাধান। মহাদেশজুড়ে চলা রক্তপাত থামানোর জন্য উদ্ভূত এই ব্যবস্থাকে পরবর্তীতে সমগ্র মানবজাতির জন্য রাজনৈতিক শৃঙ্খলার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে বাজারজাত করা হয়। এই মডেলের ভেতর বেশ কয়েকটি অনুমান প্রচ্ছন্ন রয়েছে। এটি ধরে নেয়, ধর্ম একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে আবদ্ধ এবং তা প্রধানত সম্প্রদায়ের আনুগত্যের বিষয়; এটি আইন, জ্ঞান ও সামাজিক শৃঙ্খলার কোনো পূর্ণাঙ্গ রূপ নয়। সবচেয়ে বড় কথা, এটি বিশ্বাস করে যে রাষ্ট্র ধর্মের ঊর্ধ্বে একটি নিরপেক্ষ বিচারক।

ঔপনিবেশিক যুগে এই মডেলটিকেই যখন মুসলিম ভূখণ্ডে চাপিয়ে দেওয়া হলো, তখন তা একটি কাঠামোগত সংকটের জন্ম দেয়। এই চাপিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল চরম যান্ত্রিক ও নির্মম। মধ্যপ্রাচ্যের সাইকস-পিকট চুক্তি কিংবা আমাদের এই উপমহাদেশের র‍্যাডক্লিফ লাইনের ইতিহাস এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ভিনদেশি আমলারা ড্রয়িংরুমে বসে মানচিত্রের ওপর পেনসিল দিয়ে দাগ টেনে হাজার বছরের পুরোনো সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কগুলোকে এক রাতেই ছিন্ন করে দিয়েছিলেন।[4]

স্রেফ একটি কৃত্রিম সীমারেখা দিয়ে বিভক্ত করে তৈরি করা হয়েছিল নতুন রাষ্ট্র। এভাবেই যে মাটিতে সীমানাবদ্ধ রাষ্ট্রের কোনো ধারণাই ছিল না, সেখানে জবরদস্তি করে রোপণ করা হলো ওয়েস্টফ্যালিয়ান মডেল।

ইসলামি ঐতিহ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের সাথে এই ধারণার সংঘাত অত্যন্ত প্রবল। ইসলামি চেতনায় ‘উম্মাহ’ কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা মানচিত্রের সীমারেখায় আবদ্ধ নয়; এটি এমন এক বিশ্বাসী সম্প্রদায় যা ভৌগোলিক সীমানাকে অতিক্রম করে যায়। ইসলামি বোঝাপড়ায় আদেশ দেওয়ার চূড়ান্ত অধিকার বা ‘হাকিমিয়্যাহ’ কেবল আল্লাহর।

অন্যদিকে আলিম, কাজি ও ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা যে সামাজিক ও আইনি শৃঙ্খলা, তা কখনোই সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রশক্তির মুখাপেক্ষী ছিল না। প্রাক-আধুনিক ইসলামি সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণের মূল চালিকাশক্তি ছিল এই ওয়াকফব্যবস্থা। এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো, যার ওপর খলিফা বা সুলতানের কোনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না।

উপনিবেশবাদীরা এসেই প্রথম এই ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো বাজেয়াপ্ত করে এবং সমাজকে সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হারানোর ফলেই ইসলামি আইন ও সমাজব্যবস্থা আধুনিক রাষ্ট্রের খাঁচায় বন্দী হয়ে পড়ে।[5]

এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আইনবিদ ওয়ায়েল হাল্লাক তাঁর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন যে, আধুনিক রাষ্ট্র কোনো নিরপেক্ষ ও শূন্য পাত্র নয় যাকে চাইলেই ইসলামি বিষয়বস্তু দিয়ে পূর্ণ করা সম্ভব। রাষ্ট্রের নিজস্ব যে গঠনপ্রকৃতি, যেখানে সে নিজেই সর্বোচ্চ আইনপ্রণেতা এবং নৈতিক কর্তৃত্বের একচ্ছত্র দাবিদার, তা ইসলামি আইনি দর্শনের সাথে মৌলিকভাবেই সাংঘর্ষিক। ইসলামে আইন শাসকের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না; বরং তা শাসককে সীমাবদ্ধ করে। ফলে আধুনিক সীমানাবদ্ধ রাষ্ট্রকে ‘ইসলামিকরণ’ করার প্রয়াস একধরনের কাঠামোগত স্ববিরোধিতা তৈরি করে।[6]

ঔপনিবেশিক শক্তি যখন মুসলিম বিশ্বকে আধুনিক জাতিরাষ্ট্রে বিভক্ত করে, তখন তারা কোনো ধর্মনিরপেক্ষ বা নিরপেক্ষ কাঠামো রেখে যায়নি। বরং তারা নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংকটের ফয়সালার মডেলকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে যায়। আধুনিক নাগরিকত্বের ধারণা ব্যক্তির সর্বোচ্চ রাজনৈতিক আনুগত্যকে জাতিরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত করে। রাষ্ট্র নাগরিকের বিশ্বাসকে ব্যক্তিগত পরিসরে অনুমোদন দেয় ঠিকই, কিন্তু জনপরিসরে, আইনের কাঠামোতে বা যৌথ জীবনের নীতি নির্ধারণে তার কোনো দৃশ্যমান দাবিকে স্বীকৃতি দেয় না।

এই ইতিহাসের পুনর্পাঠের উদ্দেশ্য কেবল অতীতচারিতা বা কোনো কাল্পনিক সোনালি যুগের জন্য আক্ষেপ করা নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এই অনিবার্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। আধুনিক রাষ্ট্র, তার সীমানা এবং চূড়ান্ত কর্তৃত্বের দাবি একটি নির্দিষ্ট সভ্যতার ও নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক বাস্তবতার ফসল।

ক্ষমতা যখন আমাদের চিন্তার গভীরে এমনভাবে প্রোথিত হয় যে আমরা তার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেও ভুলে যাই, তখনই তা সবচেয়ে কার্যকর হয়ে ওঠে। ওয়েস্টফ্যালিয়ান ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই এই অদৃশ্য ক্ষমতা চর্চা করে আসছে। মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে বর্তমানের সবচেয়ে মৌলিক কাজ হলো এই অদৃশ্য শৃঙ্খলটিকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দৃশ্যমান করা। এটি অনুধাবন করা যে, ধর্মনিরপেক্ষতার বিজয়ের আড়ালে আসলে কর্তৃত্বের একটি নতুন ধর্মতত্ত্ব নীরব আধিপত্য বিস্তার করেছিল। উৎসের এই স্বরূপ উন্মোচনই হতে পারে নতুন কোনো রাজনৈতিক কল্পনার প্রথম পদক্ষেপ।


[1] Peter H. Wilson, The Thirty Years War: Europe’s Tragedy (Cambridge: Harvard University Press, 2009).

[2] Andreas Osiander, “Sovereignty, International Relations, and the Westphalian Myth,” International Organization 55, no. 2 (Spring 2001): 251-287.

[3] Carl Schmitt, Political Theology: Four Chapters on the Concept of Sovereignty, trans. George Schwab (Cambridge, MA: MIT Press, 1985), 36.

[4] David Fromkin, A Peace to End All Peace: The Fall of the Ottoman Empire and the Creation of the Modern Middle East (New York: Henry Holt and Company, 1989).

[5] Wael B. Hallaq, Shari’a: Theory, Practice, Transformations (Cambridge: Cambridge University Press, 2009), 396-400.

[6] Wael B. Hallaq, The Impossible State: Islam, Politics, and Modernity’s Moral Predicament (New York: Columbia University Press, 2012).

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles
রাজনৈতিক দর্শনসাহিত্য

কবি ইকবালের চিন্তায় লেনিন: বিপ্লব ও মানবমুক্তির দুই দিগন্ত

রাজনৈতিক দর্শন•June 29, 2026রাজনৈতিক দর্শনসাহিত্যকবি ইকবালের চিন্তায় লেনিন: বিপ্লব ও মানবমুক্তির দুই...

রাজনৈতিক দর্শনসমসাময়িক বিশ্লেষণ

মালয়েশিয়ার সংবিধানে ইসলাম ও শরিয়া গভর্ন্যান্স: একটি আইনি বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক দর্শন•June 26, 2026রাজনৈতিক দর্শনসমসাময়িক বিশ্লেষণমালয়েশিয়ার সংবিধানে ইসলাম ও শরিয়া গভর্ন্যান্স: একটি...

ইসলামি ঐতিহ্যমডার্নিটিরাজনৈতিক দর্শনসমসাময়িক বিশ্লেষণ

নেশন-স্টেট, নৈতিকতা ও কাঠামোগত সংকট

ইসলামি ঐতিহ্য•June 22, 2026ইসলামি ঐতিহ্যমডার্নিটিরাজনৈতিক দর্শনসমসাময়িক বিশ্লেষণনেশন-স্টেট, নৈতিকতা ও কাঠামোগত সংকটআবদুল্লাহ আল-রায়হান•40...

রাজনৈতিক দর্শনসমসাময়িক বিশ্লেষণ

গোমাতা: বিশ্বাস ও রাজনীতির জটিল সমীকরণ

রাজনৈতিক দর্শন•June 17, 2026রাজনৈতিক দর্শনসমসাময়িক বিশ্লেষণগোমাতা: বিশ্বাস ও রাজনীতির জটিল সমীকরণমোহাম্মদ মোশাররফ...