নতুন ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম ২০২৬ শুরু হয়েছে! ক্রিটিক্যাল সোশ্যাল থট অ্যান্ড ইসলামিক ট্র্যাডিশন ডিপ্লোমা সম্পর্কে জানুন → নতুন ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম ২০২৬ — ডিপ্লোমা সম্পর্কে জানুন →

মিডিয়া ও প্রোপাগান্ডা

শরিয়া-ভীতি: পুরোনো সাম্রাজ্যবাদেরই আরেক রূপ

Share
Share

শরিয়া-ভীতি: পুরোনো সাম্রাজ্যবাদেরই আরেক রূপ

ইসলামের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চলছে, তা শুধু মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়। এই যুদ্ধ আসলে আপনার ও আমার মতো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে। এর পেছনে রয়েছে বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন। ধনী গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। এই আয়োজন এতই বড় যে, ধীরে ধীরে মূলধারার গণমাধ্যমও এর অংশে পরিণত হয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে অনেক পরিচিত মুখ ও রাজনীতিকরা প্রতিনিয়ত নতুন বয়ান তৈরি করছেন। তারা এমন এক ন্যারেটিভ দাঁড় করাচ্ছেন, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় এক নিধনযজ্ঞকে সমর্থন জোগাচ্ছে। গত আড়াই বছর ধরে প্রকাশ্যে এই হত্যাযজ্ঞ চলছে। কেউ কেউ একে ‘Rights of conquest’ বলে দম্ভ করছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ধ্বংসযজ্ঞের পক্ষে এখনো অনেকেই সরব।

হামলার শিকার হয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর হারিয়েছে। মারা গেছে লাখো বেসামরিক মানুষ। এতসব খবর ও বর্ণনার ভিড়ে একটি বিষয় আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। এই পুরো আয়োজনের আসল লক্ষ্যবস্তু আপনি, আমি—আমরাই।

এবার একটু হিসাব মেলানো যাক।

আফগানিস্তানে আমেরিকার ২০ বছরের যুদ্ধে খরচ হয়েছে ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিপুল টাকা গেল কোথায়? স্রেফ হাওয়ায় মিলিয়ে যায়নি। এই অর্থের বড় অংশই ঢুকেছে অস্ত্র ব্যবসায়ী, ভাড়াটে সৈন্য, ঠিকাদার ও রাজনৈতিক লবিস্টদের পকেটে।

ইরাক অভিযানের চিত্রও একই। সেখানে খরচ হয়েছে আরও ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এরপর আসে লিবিয়ার কথা। হিলারি ক্লিনটনের নেতৃত্বে সেখানে যে সামরিক হস্তক্ষেপ হয়েছিল, তাতে ব্যয় হয় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। পরিণতি কী হলো? একটি সমৃদ্ধ দেশ রাতারাতি উন্মুক্ত দাস-বাজারে রূপ নিল। মূলত একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে বিপুলভাবে ধনী করতেই এসব অর্থ কাজে লাগানো হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়।

এখন ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেও ইসরায়েলের জাতিগত নিধন বিনা বাধায় চালিয়ে নেওয়াই এর উদ্দেশ্য। হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। আর এই নতুন পর্বের শুরুতেই খরচ ধরা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলার। সাথে প্রতিদিন উড়ছে আরও ২ বিলিয়ন ডলার।

এত কিছুর উদ্দেশ্য আসলে কী?

পশ্চিমা সভ্যতা বাঁচানো? নাকি মানুষকে সুরক্ষিত রাখা? মোটেও না। যদি সত্যি মানুষের কল্যাণ চাওয়া হতো, তবে এই বিপুল অর্থ অন্যভাবে কাজে লাগত। গত এক দশক ধরে প্রতিটি মার্কিন নাগরিককে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যেত। সব শিক্ষার্থীর কলেজের ব্যয় মেটানো যেত।

এক মিলিয়ন শিশুর জন্য শিশুযত্ন কেন্দ্র তৈরি করা কোনো কঠিন কাজ ছিল না। রিগ্যান আমলের পর থেকে ভেঙে পড়া প্রতিটি স্কুল, রাস্তা, ব্রিজ ও হাসপাতাল নতুন করে গড়া যেত।

এরপরও যে অর্থ বাঁচত, তা দিয়ে পুরো পৃথিবীর মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়া সম্ভব ছিল। সব জায়গায় বাসস্থানের ব্যবস্থা করে বর্তমানের তথাকথিত ‘অভিবাসন সংকট’ সহজেই সমাধান করা যেত। কিন্তু আমরা কেবল এসব সংকট নিয়ে চিন্তিত হওয়ার ভান করি।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভেদ: মিথ এবং শরিয়া-বিরোধী আখ্যান

‘পশ্চিমা সভ্যতা’ বলতে আমরা যা বুঝি, তা আসলে একটি ফাঁকা বুলি। প্রাচ্য ছাড়া পাশ্চাত্যের আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই। একে সমতল পৃথিবীর ধারণার মতোই ভিত্তিহীন বলা চলে।

খ্রিষ্টধর্মের জন্ম মধ্যপ্রাচ্যে। দর্শন, গণিত, বিজ্ঞান বা চিকিৎসা—সবকিছুর শেকড় আফ্রিকা আর প্রাচ্যে। সংস্কৃতির আদান-প্রদান নদীর জলের মতো। যুগে যুগে এটি মিশেছে, বদলেছে এবং নতুন রূপ পেয়েছে।

‘জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান মূল্যবোধ’ বলে আলাদা কিছু নেই। ইসলামিক মূল্যবোধের সঙ্গে এর কোনো সংঘাতও নেই। এগুলো মূলত একই ধর্মের ভিন্ন রূপ। অনুসারীরা ঈশ্বরকে একই অর্থে ডাকেন। একই ভাষায় কথা বললে অভিবাদনের ভাষাও এক হয়। যেমন—’আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’।

পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ ইব্রাহিমীয় ধর্মের অনুসারী। এই ধর্মের মূল শিক্ষা কিন্তু একটাই। অন্যকে নিজের মানুষের মতো ভালোবাসা এবং তার প্রতি কোনো অন্যায় না করা।

তাহলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দ্বন্দ্ব এল কোথা থেকে? এটি আসলে একটি বানানো গল্প। মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে সাম্য ধ্বংস করার জন্যই এই ত্রাসের গল্পটি ফাঁদা হয়েছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মগজধোলাই হওয়া সমাজগুলোর একটি এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে কান পাতলেই ‘শরিয়া-বিরোধী’ আইনের কথা শোনা যায়। দেশটির ৪৩টি অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত ২০০টির বেশি এমন বিল উঠেছে।

প্রশ্ন হলো—কেন এত বিল? সাধারণ মানুষ মনে করেন, ধর্মীয় চরমপন্থা রুখতেই হয়তো এই উদ্যোগ। কিন্তু বিলগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন, এগুলোর আসল কাজই হলো সমাজে চরমপন্থা উসকে দেওয়া।

এই শরিয়া-বিরোধী আখ্যানের মূল কারিগরের নাম ডেভিড ইয়েরুশালমি। তিনি একটি ইসরায়েলি পলিসি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক। প্রকাশ্যে তিনি আরবদের উৎখাত ও মুসলিমদের নির্বাসনের পক্ষে কথা বলেন।

ডেভিড নিজেই এটি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আইন পাস করা তাদের মূল লক্ষ্য নয়। তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো ‘শরিয়া’ শব্দটিকে ব্যবহার করে গণমাধ্যমে একটি ভীতির আবহ তৈরি করা।

এই আন্দোলনের দাবিগুলো বাস্তবে কতটা ভিত্তিহীন তা সহজেই বোঝা যায়। তারা প্রচার করে, শরিয়া মূলত সরকার উৎখাতের একটি চক্রান্ত। তারা আরও দাবি করে, আমেরিকার ৮০ শতাংশ মসজিদ সন্ত্রাসী তৈরির জায়গা।

কিন্তু ২০১০ সালের একটি গবেষণায় এই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এফবিআই এবং র‍্যান্ড কর্পোরেশনের ওই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার মুসলিমদের মধ্যে চরমপন্থির সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। প্রতি ৩০ হাজার জনে এই সংখ্যা একজনেরও কম।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখলের জন্য আমেরিকার অনেক গির্জা ও সিনাগগ প্রকাশ্যে তহবিল সংগ্রহ করছে। এই তহবিলের ওপর তাদের কোনো কর দিতে হয় না। বরং তারা আমেরিকান নাগরিকদের করের টাকায় ভর্তুকি পায়। আমেরিকায় শরিয়া আদালত দেশের আইনব্যবস্থা দখল করছে বলে আজ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অথচ ইসরায়েলকে বয়কট করা ঠেকাতে দেশটির ৩৮টি অঙ্গরাজ্যে কঠোর আইন পাস হয়েছে।

এখান থেকেই ইসলামভীতির পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়।

ইসলামকে কেন এত ভয়ংকর হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে তার প্রধান কারণ ফিলিস্তিন। কেনানাইটদের আমল থেকে ফিলিস্তিনিরা ওই ভূমিতে একটানা বসবাস করে আসছে। তারা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন একটি জনগোষ্ঠী। তাদের পূর্বপুরুষরাই একসময় ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টধর্ম পালন করতেন। কয়েক শতাব্দী আগে তাদের বড় অংশ ইসলাম গ্রহণ করে। আজ রাজনৈতিক স্বার্থে তাদেরকেই সন্ত্রাসী হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

এর কারণ হলো, কোনো জাতিকে অপরাধী হিসেবে প্রমাণ করতে না পারলে তাদের মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। ইসলামকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোষী না বানালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এত সহজে সামরিক আগ্রাসন চালানো সম্ভব হতো না।

পশ্চিমাদের সাহায্যেই সেখানে স্বৈরশাসকদের ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। যখনই চরমপন্থার কথা ওঠে, তখন এর মূল কারণটি আড়াল করা হয়। অথচ যেকোনো নিরপেক্ষ গবেষণা বলছে, ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে পশ্চিমা ও ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক সামরিক হস্তক্ষেপই এই চরমপন্থার প্রধান কারণ।

হঠাৎ একদিন যদি আপনাকে বলা হয়, আপনি নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী বিয়ে করতে পারবেন না। প্রার্থনায় বসতে পারবেন না। এমনকি নিজের মতো করে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পথটিও আপনার জন্য নিষিদ্ধ?

মনে হতে পারে এটি কোনো ডিস্টোপিয়ান উপন্যাসের প্লট। অথচ এমন একটি আইনি কাঠামোই এখন পশ্চিমা দুনিয়ার, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তাদের এই প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে একটিমাত্র শব্দ—শরিয়া।

শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কেবলই একটি পথ। খ্রিষ্টানদের ক্যানন ল কিংবা বৌদ্ধদের ধর্মের যে ধারণা, এটি তারই সমান্তরাল একটি রূপ। ডিসেম্বরে ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর প্রথাটিকে আপনি চাইলে বড়দিনের শরিয়া বলতে পারেন। কিন্তু এই প্রথার ভেতরে আরেকটি স্তর থাকে, সুফিরা যাকে বলেন তরিকা—অর্থাৎ বড়দিনের ত্যাগের চেতনাটুকু অনুধাবন করা। গাছে আলো জ্বালানোর মানে হলো, অন্ধকারের ভেতরেও আলোর অস্তিত্বকে স্বীকার করে নেওয়া। এরপরে আসে হাকিকাহ বা অন্তর্নিহিত উপলব্ধি। চার্লস ডিকেন্সের গল্পে বৃদ্ধ স্ক্রুজ যেমন জীবনের এক পর্যায়ে এসে বুঝতে পারে, কেবল সম্পদ জমানোই জীবনের একমাত্র অর্থ নয়। ভুল পথে হাঁটলে মানুষের আত্মা কীভাবে ক্ষয় হয়, সেই আত্মোপলব্ধিই হলো হাকিকাহ।

শরিয়া এই আধ্যাত্মিক যাত্রার প্রথম ধাপ। একে নিষিদ্ধ করার অর্থ কোনো রাজনৈতিক মতবাদকে প্রতিহত করা নয়; মানুষের মৌলিক ধর্মীয় চর্চাকে অপরাধের খাতায় ফেলে দেওয়া।

রাষ্ট্র যখন মানুষের এই আধ্যাত্মিক যাত্রাকে রাজনৈতিক তকমা দেয়, তার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট মনস্তত্ত্ব কাজ করে। সে চায় মানুষ স্রষ্টাকে নয়, কেবল রাষ্ট্রের একাধিপত্যকে মেনে নিক। এই আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই গত কয়েক দশকে এক অভূতপূর্ব ইসলামোফোবিয়া তৈরি করা হয়েছে।

রাজনীতিকদের বয়ানে কান পাতলে এই ভীতির তীব্রতা টের পাওয়া যায়। টেনেসির এক জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, আমেরিকান সমাজে মুসলিমদের কোনো জায়গা নেই। ফ্লোরিডার আরেক নেতা অবলীলায় বলেন, কুকুর আর মুসলিমের মধ্যে বেছে নিতে হলে তিনি কুকুরকেই বেছে নেবেন। আলাবামার এক রাজনীতিকের চোখে মুসলিমরা হলো ‘ঘরের ভেতরের শত্রু’।

এসব কোনো বিক্ষিপ্ত বা খামখেয়ালি মন্তব্য নয়। খোদ আমেরিকান কংগ্রেসে এখন ২৪টি অঙ্গরাজ্যের ৫৯ জন সদস্য নিয়ে ‘শরিয়ামুক্ত আমেরিকা ককাস’ গঠিত হয়েছে। তাদের দাবি, তারা পশ্চিমা সভ্যতাকে বাঁচানোর মহৎ লড়াইয়ে নেমেছেন। বিল মাহেরের মতো জনপ্রিয় উপস্থাপক বা স্যাম হ্যারিসের মতো বুদ্ধিজীবীরা যখন ইসলামকে “সকল খারাপ ধারণার আঁতুড়ঘর” বলে আখ্যা দেন, তখন তাঁরা মূলত এই রাজনৈতিক এজেন্ডাকেই বৌদ্ধিক সমর্থন জোগান।

এই ভীতির বাতাবরণ এমনি এমনি তৈরি হয়নি। এর পেছনে কাজ করছে বিলিয়ন ডলারের এক সুসংগঠিত প্রচারযন্ত্র। বড় বড় কর্পোরেট গণমাধ্যম এই খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের বাণিজ্য ফুলেফেঁপে ওঠে। তারা এমন এক শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে, যাদের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।

আমাদের মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত একটি মিথ গেঁথে দেওয়া হচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্য হাজার হাজার বছর ধরে একটি রণক্ষেত্র। বর্তমানের ধ্বংসযজ্ঞ আর জাতিগত নিধনকে স্বাভাবিক ও অবধারিত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেই এই বয়ান তৈরি করা হয়েছে। ইতিহাসের পাতা উল্টালে কিন্তু ভিন্ন চিত্র মেলে। খলিফা উমরের জেরুজালেম, সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবির শাসন কিংবা উসমানি সাম্রাজ্যের সময়কালে ধর্মীয় স্বাধীনতার যে চর্চা ছিল, তা আজকের পশ্চিমা সভ্যতার অনেক মানদণ্ডেই বিরল। ইবরাহিমীয় ধর্মের তিন ধারার অনুসারীরা সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী পাশাপাশি বসবাস করেছে।

ভেতরের অহংকার আর মনগড়া ধারণাগুলোকে সমর্পণ করার ডাক দিয়ে ইসলামের শুরু। মানুষের বিশ্বাসের পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবার গন্তব্য এক।

আজ সুদূর পাশ্চাত্যের যুদ্ধবাজরা তাদের প্রচারযন্ত্র দিয়ে মানুষের মন নিয়ন্ত্রণের যে ছক কষেছে, সেটি আসলে পুরোনো সাম্রাজ্যবাদেরই আরেক রূপ। গুটিকয়েক ক্ষমতাবান মানুষ এভাবেই যুগ যুগ ধরে বিভেদ উসকে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ গুছিয়েছে। এখন যে আগ্রাসনকে কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা বিশ্বাসের মানুষের ওপর হামলা বলে মনে হচ্ছে, তার উত্তাপ থেকে দিন শেষে কেউই মুক্ত থাকবে না। বিভাজনের আগুন যখন জ্বলে, তা নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডিতে আটকে থাকে না।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *